পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি রোগীদের ‘রেফার’ করাই প্রধান চিকিৎসা
জরুরি মুহূর্তে হাসপাতাল মানেই মানুষের শেষ আশ্রয়। কিন্তু খুলনার পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেই আস্থার জায়গায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অস্ত্রোপচার (ওটি) সেবার সক্ষমতা। দশটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিপুল জনসংখ্যার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী আশাশুনি, তালা ও কয়রা উপজেলার রোগীদের চিকিৎসার প্রধান ভরসা এই হাসপাতালটি। অথচ অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসকের অভাবে এখানে জরুরি অস্ত্রোপচার সেবা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, এই বিশাল জনপদের রোগীদের জন্য অ্যানেস্থেশিয়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পাওয়া যায় সপ্তাহে মাত্র একদিন। হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অ্যানেস্থেশিয়া) ডা. জহিরুল ইসলাম সপ্তাহে কেবল শনিবার পাইকগাছায় দায়িত্ব পালন করেন। বাকি দিনগুলোর মধ্যে বুধবার তিনি কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং রবি, সোম, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করেন। শুক্রবার তাঁর সাপ্তাহিক ছুটি।
ডা. জহিরুল ইসলাম জানান, এটি তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়; সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অফিসিয়াল আদেশের ভিত্তিতেই তিনি তিন উপজেলায় দায়িত্ব ভাগ করে পালন করছেন। তাঁর বাড়ি দিঘলিয়ায় এবং সেখান থেকেই তিনি এই তিনটি ভিন্ন কর্মস্থলে যাতায়াত করেন।
একজন অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসককে তিনটি হাসপাতালে দায়িত্ব দেওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন প্রসূতি ও জরুরি অস্ত্রোপচারের রোগীরা। প্রসবজনিত জটিলতা কিংবা সড়ক দুর্ঘটনার মতো জরুরি মুহূর্তে অ্যানেস্থেশিয়া বিশেষজ্ঞ না থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে রোগীদের অন্যত্র রেফার করছে। ফলে প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা রোগীদের নতুন করে পরিবহন খরচ ও সময়ের অপচয় সইতে হচ্ছে, যা অনেক সময় রোগীর জীবনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
সরকারি হাসপাতালে নিরবচ্ছিন্ন অস্ত্রোপচার সেবা না মেলায় নিম্নআয়ের মানুষকে বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে। এতে দরিদ্র পরিবারগুলোর ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। ধারদেনা বা সঞ্চয় ভেঙে বেসরকারি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচার ও আনুষঙ্গিক খরচ মেটাতে গিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে অনেক পরিবার।
পাইকগাছার সাধারণ মানুষের দাবি, তিন লক্ষাধিক মানুষের এই জনপদে শুধু শনিবার নয়, সপ্তাহের প্রতিটি দিনই যেন অস্ত্রোপচার সেবা নিশ্চিত করা হয়। এ জন্য একজন স্থায়ী অ্যানেস্থেশিয়া বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদ-এর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি একটি সভায় ব্যস্ত আছেন বলে জানান। পরবর্তীতে খুদেবার্তার মাধ্যমে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তাঁর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসকের সংকটের সমাধান করবেন এবং পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আস্থার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলবেন।
ডিআর




Comments